আমি আবেগাপ্লুত হয়ে জোসের ঠেলায় বলে ফেলেছি, ক্ষমা করে দেন স্যার

স্টাফ রিপোর্টার:জাহিদ নু’মানী : রাষ্ট্র বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আটকের পর নিজের ভুল স্বীকার করেছেন ‘শিশুবক্তা’ খ্যাত মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ‘আর ভুল হবে না’ এমন নিশ্চয়তা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করতে অনুরোধও করেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৩টার দিকে

নেত্রকোনার পূর্বধলার লেডির কান্দার নিজ বাড়ি থেকে ২৬ বছর বয়সী মাওলানা রফিকুল ইসলামকে আ’টক করে র‌্যাব-১৪- এর একটি অভিযানিক দল। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রবিরোধী, উস্কানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে

মাওলানা রফিকুল ইসলাম মা’দানীকে আট’ক করা হয়েছে। আটকের পর দিনভর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব। জি’জ্ঞাসাবাদে ভুল হয়েছে জানিয়ে ক্ষমা চেয়ে মুক্তি দাবি করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার ভুল হয়েছে। ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে

আর এমন ভুল হবে না। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, কী আর বলবো স্যার, ওয়াজের মঞ্চে যখন উঠি তখন শরীরে একটা জোস চলে আসে। এ জোশের কারণে অনেক সময় হুঁশ থাকে না। তখন আর নিজেকে ধরে রাখা যায় না। জোস ও আবেগের কারণে

অনেক কিছু না বুঝেই বলে ফেলেছি। আর এমন হবে না। এবারের মতো আমাকে মাফ করে দেন। এদিকে র‌্যাবের একটি বিশ্বস্ত সূত্র সাপ্তাহিক মশালকে জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে আসমা বেগম নামের এক নারীকে তিনি বিয়ে করলেও এতদিন বিষয়টি গোপন

রেখেছেন। যাকে বিয়ে করেছেন তিনি রফিকুল ইসলামের ভাবির চাচাতো বোন বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, নিজেই কালিমা পড়িয়ে বিয়ে করেছেন তিনি। যা তাদের দু’পরিবারের কেউ জানতো না। তবে মাওলানা মামুনুল হকের প্রকাশিত কাণ্ডের পর ভয়ে

বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা মাকে নিয়ে ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে গতকাল বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু মেয়ের পরিবার তা মেনে নেয়নি বলে জানা গেছে। আমাদের সাপ্তাহিক মশালকে র‌্যাব আরো জানান, রফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিজিটাল আইনে মামলা

হবে। তবে তাঁর কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে কী কী তথ্য পাওয়া গেছে তা পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। এ মুহূর্তে জানানো যাচ্ছে না। রফিকুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনায়। স্থানীয় স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হলেও পরে তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হন ও নূরানি, হেফজ পড়েন। এরপর আট বছর কিতাবখানায় পড়েন। তিনি

রাজধানীর বারিধারায় মাদানী এভিনিউয়ের পাশে অবস্থিত জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস পড়েছেন। এ ছাড়া তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অঙ্গসংগঠন যুব জমিয়তের নেত্রকোনা জেলার সহ-সভাপতি।

এই ধরনের আরো খবর