পাঁচ মে ইসলামী আন্দোলনের আরেকটি মাইলফলক —-মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী

নিউজ ডেস্ক :

 ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন পাঁচ মে ইসলামী আন্দোলনের আরেকটি মাইল ফলক। ২০১৩ সালের ৫ মে-এর হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্বরের সমাবেশ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে, প্রয়োজনের তাগিদে যেকোন সময় ঐক্যবদ্ধ হতে পারে এদেশের সকল ইসলামী দল, সংগঠন ও তৌহিদী জনতা । তৌহিদী জনতা মহানবীর (সা.) মর্যদার পতাকাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে আপসহীন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।  ইসলামের নিশান-বরদার ইসলামী, দল, সংগঠন ও তৌহিদী জনতা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যে সংগ্রামের প্রতি বিশ্বস্ত ও অবিচল, তাও এর মাধ্যমে প্রমাণীত হয়েছে। সেদিন হেফাজত বলে দিয়েছিল, “নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশায় কাম ও প্রবৃত্তিপরায়ণতার মাধ্যমে জাতিকে নারকীয় গহ্বরে নিমজ্জিত করা যাবেনা“।  হেফাজতের সেই দিনের উক্তি আজ সঠিক বলে প্রমাণীত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং সারা বিশ^ আজ নারকীয় গহ্বরে নিমজ্জিত।  হেফাজত যেভাবে মানুষের ধর্মীয় অনুভ’তি ও চতনাকে নাড়া দিয়েছে, সে-কথা এদেশের জনগণ চিরদিনই বিস্ময় ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। 

তিনি ৫ মে ঢাকা অবরোধ শেষে শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশের ৭ম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, মহানবী (সা.) সম্পর্কে ব্যাঙ্গাত্মক, অরুচিকর ও অবমাননাকর উক্তি বন্ধ এবং এর জন্যে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি সম্বলিত আইন প্রণয়নসহ ১৩দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৯ মার্চ থেকে হেফাজতের ব্লগার বিরোধী আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত হয়। ২০১৩ সালের ৯ মার্চ হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এক সভায় একই বছরের ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমূখে লংমার্চ ও শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ এবং সেই মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ৫মে শাপলা চত্বরের সমাবেশ মর্মরস্পর্শী ঘটণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সেদিনকার হৃদয়বিদারক ঘটণায় শিক্ষনীয় অনেক কিছু আছে। এর এক দিকে রয়েছে শোকাবহ অশ্রুসজল কাহিনী, অপর দিকে মহান আত্মত্যাগের অণুপ্রেরণা এবং সেই সাথে মহানবীর (সা:) মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়। সেদিনকার অতুলনীয় শাহাদাৎ কোন পরাজয়ের প্রতিফলন নয়,বরং তৌহিদী জনতার জন্যে পরম বিজয়ের সংকেত।
তিনি পরিশেষে বলেন, আমরা যে ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কুচক্্রী মহলের বিরুদ্ধে আবশ্যকবোধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে পারি, তা ৬ এপ্রিল ও ৫ মে প্রমাণীত হয়েছে। তাই সত্যের জন্যে সংগ্রাম করতে পশ্চাদপদ হওয়া যাবেনা। হতাশায় আচ্ছন্নতার মূখে জয়ের অনিবার্যতায় আস্থাবান হতে হবে। হুংকার ছেড়ে দাাঁড়াতে হবে লড়াইয়ের ময়দানে জয়ের নিশ্চিত আশা নিয়ে। দুর্ধর্ষ সংগ্রামে নেমে পড়তে হবে দুর্জয় বিশ^াস নিয়ে। সামগ্রিক চরিত্রে এই মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কারণ মহৎ আদর্শ ব্যক্তিগত সুখ-সুবিধার অবকাশ রাখে না।

এই ধরনের আরো খবর