কুরবানীর উদ্দেশ্য যেনো হয় শুধুই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন

হারুন মাজহারী, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ ইসলামী ইতিহাসে পশু কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

কুরবানী হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাঁর নৈকট্য লাভের আশায়।তাই নিয়তে পরিশুদ্ধতা না থাকলে কুরবানি কবুল হবে না।ইতিহাসের থেকে জানাযায় দুনিয়ায় প্রথম কুরবানি হাবিল ও কাবিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে কাবিলের কুরবানি কবুল হয়নি। কাবিলের কুরবানি কবুল না হওয়া প্রসঙ্গে হাবিল বলেছিলেন-

“আল্লাহ তাআলা মুত্তাক্বিদের (পরহেযগার ও সংযমি) কুরবানিই কবুল করে থাকেন”। (সুরা মায়িদা : আয়াত ২৭)

বুঝা গেলো কুরবানী কবুল হতে হলে নিয়ত সহিহ শুদ্ধ করতে হবে।

কিছু লোক এমন আছেন তাঁরা কত দামী পশুক্রয় করতে পারেন তার প্রতিযোগিতায় নেমে পরে। কম দিয়ে পশুক্রয় করলে মানুষ কি বলবে.?

আবার সমাজে এমন কিছু লোক আছেন,তাঁরা শুধু এলাকার কে কত টাকা দিয়ে কুরবানি ক্রয় করেছেন সারাটা দিন তা দেখে বেড়ান আর মন্তব্য করে বসেন অমুকে কুরবানি কিনে জিতেছেন অমুকে ঠকেছেন ইত্যাদি নানানরকম মন্তব্য।

আপনি যে টাকা দিয়ে পশু ক্রয় করেছেন,মনে করবেন সেই পরিমাণ টাকাই আল্লাহ কবুল করেছেন। দামে কেউ ঠকে বা জিতে না বরং কুরবানি কবুল হলেই আপনি জিতেছেন।আর যদি আপনার কুরবানী আল্লাহর দরবারে কবুল না হয় তাহলে আপনি যত বেশি টাকা দিয়েই পশু ক্রয় করেন না কেনো আপনি একেবারেই ঠকেছেন।তাই এখনো যাঁদের নিয়তকে সহিহ করতে পারেননি তাঁদের উচিৎ হবে শুধুই পশু কুরবানী নয় বরং পশু কুরবানীর সাথে সাথে মনেরও কুরবানী দিতে হবে।অর্থাৎ একনিষ্ঠতার পরিচয় দিতে হবে।

কুরবানিতে একনিষ্ঠতার প্রয়োজনীয়তা কতবেশি তা কুরআনের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট।

আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আল্লাহর কাছে কখনো ওগুলির (কুরবানির জন্তুর) গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (সংযমশীলতা); এভাবে তিনি ওগুলিকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এই জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন। আর তুমি সুসংবাদ দাও সৎকর্মশীলদেরকে। (সুরা হজ : আয়াত ৩৭)

তাই আমাদের উচিৎ হবে খাঁটি দিলে কুরবানী করার নিয়ত সহিহ করা।

আল্লাহ আমাদের পশু কুরবানীর পাশাপাশি মনের পশুত্বেরও কুরবানী করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার তৌফিক দিন

এই ধরনের আরো খবর